সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভাকে জনসমুদ্রে রূপ দিয়ে আজ আরেকটি ইতিহাস সৃষ্টি করতে চায় আওয়ামী লীগ




দুপুর ২টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠেয় এজনসভায় ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের আদলেই জনসমুদ্রের পুনরাবৃত্তি করতে চায় দলটি। এতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করবেন। নেতাকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়ার পাশাপাশি তিনি নৌকায় ভোট চাইবেন। এ ছাড়া সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও তুলে ধরবেন তিনি।
এ লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। রেকর্ডসংখ্যক লোক সমাগমের পাশাপাশি থাকবে চমকও।
লাল-সবুজের জমিনে হাজার হাজার নৌকা নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় উপস্থিত থাকবে যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আজকের জনসমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত করতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ। লোক সমাগমের অতীতের সব রেকর্ড ভাঙতে চায় তারা। ঐতিহাসিক দিনটিতে আজকের জনসভা যোগ করবে ভিন্নমাত্রা। এ জনসভাকে জনসমুদ্রে রূপ দিয়ে আজ আরেকটি ইতিহাস সৃষ্টি করতে চায় আওয়ামী লীগ।
এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের দুই অংশ, রাজধানীর সব দলীয় সংসদ সদস্য, রাজধানীর আশপাশের জেলাগুলোর শীর্ষ নেতা, দুই সিটি কর্পোরেশনসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।
জনসভা সফল করতে ঢাকা মহানগরীতে লিফলেট বিতরণ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের নেতৃত্বে একটি টিমও ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে লিফলেট বিতরণ করে। একইভাবে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা নিজ নিজ এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন।
জনসভা সফল করতে মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ বর্ধিত সভা করে।
সোমবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ও কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠক করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কর্মসূচি বাস্তবায়নে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করেন ওবায়দুল কাদের।
সমাবেশকে সফল করতে এক মাস ধরে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কর্মিসভা করে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। একইভাবে যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনও কর্মিসভা করে। এসব কর্মিসভায় বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাদের নানা বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। দলীয় নেতাকর্মীর পাশাপাশি আওয়ামী সমর্থক, সাধারণ ভোটারদেরও সমাবেশে আনার আহ্বান জানিয়েছেন নেতারা।
এদিকে জনসমাবেশকে জনসমুদ্রে রূপ দিতে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ব্যাপক শোডাউন করার উদ্যোগ নিয়েছে। যুবলীগ উত্তর ও দক্ষিণ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ড ধরে ধরে কর্মিসভা ও বর্ধিত সভা করেন দায়িত্বশীলরা। আগামী কাউন্সিল ঘিরে এদিন ছাত্রলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও শোডাউন করবেন। এ ছাড়া মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, শ্রমিক লীগের পক্ষ থেকেও আলাদাভাবে লোক সমাগম করা হবে। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও নিজেদের অবস্থান জানান দিতে বিপুলসংখ্যক লোক সমাগমের প্রস্তুতি নিয়েছেন। জনসভায় ১৫ হাজার মালিক ও শ্রমিক সমবেত করার কথা ঘোষণা দিয়েছে বাস-মালিক শ্রমিক কর্তৃপক্ষ।
৭ মার্চের জনসভাকে ঘিরে উৎসাহের কমতি নেই যুবলীগের
রেকর্ডসংখ্যক লোক সমাগমের প্রস্তুতির পাশাপাশি আজ চমক দেখাবে সংগঠনটি। লাল-সবুজের জমিনে হাজার হাজার নৌকা নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় উপস্থিত থাকবে যুবলীগ দক্ষিণের নেতাকর্মীরা। প্রত্যেকের গায়ে থাকবে সবুজ টি-শার্ট আর মাথায় সবুজ ক্যাপ। এই অপরূপ চিত্র দৃশ্যমান করার আগে ভার্চুয়াল প্রদর্শন করেছেন যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি। হাজার হাজার নেতাকর্মীর হাতে থাকা নৌকা জনসভায় নয়নাভিরাম দৃশ্য ফুটে তুলবে বলে জানান সংগঠনটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী।
তিনি বলেন, জাতির জনকের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের দিনটি আজকের তাৎপর্য ভিন্ন। সে কারণে যুবলীগ ব্যতিক্রমী শোডাউনের আয়োজন করেছে। ঐতিহাসিক দিনকে বিশেষ মর্যাদায় পালন ও জনসভাকে দৃষ্টিনন্দন করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আজকের জনসভা থেকে আমরা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাকে জানিয়ে দিতে চাই, দেশের যুবসমাজ আপনার সঙ্গে আছে।
‘লাল-সবুজের নৌকার দোলে পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান দোল খাবে’- জানিয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট বলেন, যুবলীগ চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমরা আজকের এই বিশেষ দিনটিকে বিশেষভাবে স্মরণীয় করে রাখতে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছি। সমাবেশে হাজার হাজার নৌকা নেতাকর্মীর হাতে শোভা পাবে।
