September 12, 2026

বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সংগীত উৎসব হচ্ছে না

uch

শেষ পর্যন্ত বন্ধই হয়ে গেল বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উত্সবের এবারের আসর। সব আয়োজন তৈরি ছিল, বিদেশি শিল্পীদের সিডিউল নেওয়া ছিল, শুধু ভেন্যু বরাদ্দ না পাওয়ায় এবছর এই উত্সব আয়োজন বন্ধ ঘোষণা করলো বেঙ্গল ফাউন্ডেশন।

গতকাল রবিবার হোটেল ওয়েস্টিনে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু সাংবাদিক সম্মেলনে উত্সব আয়োজন বন্ধের এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, বড় পরিকল্পনা ছিল, সম্পূর্ণ আয়োজন শেষ করে আনার পর আর্মি স্টেডিয়াম বরাদ্দ না পাওয়ায় এবারের উত্সব বন্ধ করতে বাধ্য হলাম। উত্সব করতে না পারার জন্য আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। বক্তব্য দিতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন আবুল খায়ের লিটু। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, অনেকে আমাকে পছন্দ নাও করতে পারেন; কিন্তু এ উত্সব জাতীয় উত্সবে পরিণত হয়েছিল। এ উত্সব রাষ্ট্রের উত্সব। এরসঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তির প্রশ্ন।

এ সময় দর্শকসারিতে উপস্থিত ছিলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান এবং কালি ও কলম সম্পাদক কবি আবুল হাসনাত। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। এসময় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আগামী বছর উত্সব আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

আয়োজকরা জানান, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণ দেখিয়ে এবার বরাদ্দ দেওয়া হয়নি উত্সবের প্রতিবারের ভেন্যু আর্মি স্টেডিয়াম। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনকে দেয়া চিঠিতে ভেন্যু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আগামী ৩০ নভেম্বর ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস তিন দিনের সফরে ঢাকা আসছেন। তার নিরাপত্তার কারণে এবার আর্মি স্টেডিয়াম বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উত্সব আয়োজনের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ২৩ থেকে ২৭ নভেম্বর এই পাঁচদিন উচ্চাঙ্গসংগীত উত্সব আয়োজনের জন্য আবেদন করা হয়েছিল।

বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিগত পাঁচ বছর আয়োজন করতে পারায় সরকারের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। এবছর সরকার করতে দিচ্ছে না বা জায়গা দিতে পারছে না নিশ্চয়ই তার কোনো কারণ আছে।

আবুল খায়ের বলেন, সরকার অন্য কোনো ভেন্যুতে আয়োজন করার কথা জানিয়েছিল তবে আমরা সাহস পাইনি। বিদেশি শিল্পীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে আয়োজন অন্য ভেন্যুতে করবার ঝুঁকি নেইনি। বিদেশি শিল্পীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের এ উত্সবের পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিকল্পনা সারতেই আট মাস সময় লাগে। নিবিড়ভাবে সব দিক সমন্বয়ের পর পরিকল্পনা পরিবর্তন বা সংকোচন সম্ভব হয় না। উত্সবের পাঁচ বছরে যে চরিত্র দাঁড়িয়েছে, পরিবর্তন করলে তা বিপন্ন হবে। এ কারণে স্থান পরিবর্তন, তারিখ বা সময় পরিবর্তন কিংবা অনুষ্ঠান সংকোচন অথবা শিল্পী পরিবর্তন- এর কোনোটাই এ পর্যায়ে সমীচীন হবে না।

About Post Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *