নাসিরনগরে নির্বাচনী জনপথ চষে বেড়াচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা




রফিক হাসান-সোহাগ ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: আগামী ১৩ ই মার্চ উপ-নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নয়টি উপজেলার ছয়টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে অন্যতম নির্বাচনী আসন হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১, নাসিরনগর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে এ নির্বাচনী আসন গঠিত। এ নির্বাচনী আসনের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩,০৯,০১১ জন। এখন উপ-নির্বাচনকে সামনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বইয়েই চলছে।
সড়ক, জনবহুল স্থান রাস্তা ঘাটের মোড়, হাটঁ বাজারে শোঁভা পাচ্ছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পোস্টার,পেস্টুন ও বিলবোর্ড। আওয়ামী লীগ, বিএনপি , জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ব্যাপক প্রচারণায় সরব হয়ে উঠেছে নির্বাচনী এলাকা। এ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য পাঁচ পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য বর্তমান সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. ছায়েদুল হক এমপি।
গত ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং তারিখে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. ছায়েদুল হক এমপি ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থা ইন্তেকাল করেন। ছায়েদুল হকের মৃত্যুতে শূন্য আসনে উপ-নির্বাচন কে সামনে রেখে প্রচার প্রসার চালিয়ে যাচ্ছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী অ্যাড: মো. ছায়েদুল হকের স্ত্রী দিলশাদ আরাও মনোনয়ন পাবেন কি না এ নিয়ে এখন আলোচনা রয়েছে নাসিরনগরের সর্বত্র। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশি হয়ে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে প্রচার প্রচারণা গণসংযোগে ব্যাপক জনপ্রিয়তা গড়ে তুলেছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী কৃষকলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সভাপতি,বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও আওয়ামী লীগ নেতা এম.এ করিম।কেন্দ্রীয় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম। লন্ডন আওয়ামীগের সহ-সভাপতি, কুমিল্লা ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট দানবীর ও শিক্ষানুরাগী সৈয়দ মো. এহসানুল হক।উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও নাসিরনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ টি এম মনিরুজ্জামান সরকার।যুক্তরাষ্ট্র অাওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এ কে এম আলমগীর বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করে যাচ্ছেন;উল্লেখ্য তিনি প্রয়াত মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হকের মামাত ভাই বলে জানা যায়। কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদিকা এম.বি কানিজ।বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সভাপতি,আওয়ামী আইন পরিষদ নেতা ও বিশিষ্ট আইনজীবি অ্যাডঃ রাখেশ চন্দ্র সরকার।এরই মধ্যে শাফি মাহমুদ এর নামও শোনা যাচ্ছে মনোয়ন প্রত্যাশা করবেন বলে।
অপর দিকে বি,এন,পির একক প্রার্থী হিসেবে বিশিষ্ট শিল্পপতি আর এ কে গ্রুপের চেয়ারম্যান. বি.এন.পি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং নাসিরনগর উপেজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব সৈয়দ এ,কে একরামুজ্জামান (সুখন)। বিএনপির একক প্রার্থী বিধায় তিনি রয়েছেন সুবিধাজনক স্থানে। মাঠে তেমন তৎপরতা না থাকলেও দলীয় নেতা কর্মীদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে। তিনি সামাজিক নানা অনুষ্ঠানে তিনি যোগদান করছেন নিয়মিত। তবে উপ-নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবেন কি’না সন্ধিহান রয়েছে,তার নির্বাচনী এলাকায় তেমন কোন গণসংযোগ বা প্রচার প্রচারণা দেখা যায়নি।
এ নির্বাচনী আসনটি এক সময়ে জাতীয় পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি থাকলেও বর্তমানে নাসিরনগরে জাতীয় পার্টির তেমন কোন কার্যক্রম না থাকলেও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন রেজোওয়ান আহম্মদের ছোট ভাই কেন্দ্রীয় জাতীয় কৃষক পার্টির নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহনুল করিম (গরীবুল্লাহ সেলিম)। ইসলামী ফ্রন্ট ও জাতীয় সম্মিলিত জোর্ট থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে গণ সংযোগ করে যাচ্ছেন ইসলামী ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক এড.ইসলাম উদ্দিন দুলাল। আরো জানা যায় যে সম্ভাব্য প্রার্থী আওয়ামীলীগনেতা ফখরুল আলম শফিক, আলী আশরাফ ও সাবেক সাংসদ সৈয়দ মোর্শেদ কামালের সুযোগ্য পূত্র সৈয়দ সাজ্জাদ মোর্শেদ সোহানের কথা। সর্বোপরি এ নির্বাচনী আসনের সবকয়টি ইউনিয়নে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অন্যরকম ইমেজ বিরাজ করছে। দলীয় মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তারা তাদের প্রচার প্রচারণা যে যার মত করে চালিয়ে যাচ্ছেন।
