April 18, 2026

নেপালের সঙ্গে হেরে বাংলাদেশের বিদায়

36419252

বিমল মাগাররা যখন উল্লাস করছিলেন, বিপরীত চিত্র তখন স্বাগতিক শিবিরে। হাঁটু গেড়ে মাঠেই বসে পড়লেন তপু বর্মণরা। শুয়ে হাত দিয়ে অশ্রু মুছছিলেন কেউ কেউ। রাজ্যের হতাশা যেন ভর করে লাল-সবুজদের ওপর। এ কেবল হেরে যাওয়া নয়, টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে যাওয়া। নিয়তিকে দূরে ঠেলতে পারল না।

২০১১, ২০১৩ এবং ২০১৫ সালের পর আরও একবার সাফের গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিল বাংলাদেশ।

গ্রুপপর্বের শুরুটা দুর্দান্ত হলেও শেষটা নিদারুণ কষ্টের। শনিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে গোলকিপার শহিদুল আলম সোহেলের ভুলে বিমল মাগারের কাছে গোল হজমের শুরু বাংলাদেশের।

অন্তিম মুহূর্তে স্বাগতিকদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন নাওয়াউং শ্রেষ্ঠা। আর তাতেই ২-০ গোলের ব্যবধানে স্বাগতিকদের দর্শক বানিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে নেপাল।

দুই জয়ে ছয় পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এ-গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে শেষ চারে জায়গা করে নেয় হিমালয়কন্যার দেশটি। অন্যদিকে সমান পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা পাকিস্তান গোল ব্যবধানে স্বাগতিকদের পেছনে ফেলে সেমিফাইনালে ওঠে পাকিস্তান।

ভুটান ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই জয়। দুর্বার বাংলাদেশ জেগে উঠবে আরও একবার এই প্রত্যাশা নিয়ে প্রায় ২০ হাজার দর্শক উপস্থিত হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে।

পরাজয় নয়, বাংলাদেশের জয় দেখতেই এসেছিলেন তারা। কিন্তু স্বাগতিকদের হারে হৃদয় ভেঙে খানখান হয়ে গেছে তাদের। কেবল হারই জোটেনি, নিজ মাঠে চলমান সাফ সুজুকি কাপ থেকে অশ্রুভেজা বিদায় ঘটল বাংলাদেশের। এখন টুর্নামেন্টের বাকি সময়টা দর্শক হয়েই কাটাতে হবে স্বাগতিক বাংলাদেশকে।

তীরে এসে তরি ডুবে যাওয়া বাংলাদেশ ফুটবলে নতুন কিছু নয়। আরও একবার মিলল সেই প্রবাদবাক্যের সত্যতা। টানা দু’ম্যাচে জেতা বাংলাদেশ পা কাটল পচা শামুকে (নেপাল)।

কান্নাভেজা এ বিদায়ের খলনায়ক গোলকিপার শহিদুল আলম সোহেল। ম্যাচের ৩২ মিনিটে ফ্রি-কিক আদায় করে নেন সুনীল বাল। মাঠের ডান প্রান্ত দিযে ফ্রি-কিক নেন বিমল মাগার। বক্সের ৪০ গজ দূর থেকে নেয়া বিমলের শট প্রথমবার হাত দিয়ে ফেরালেও সোহেলের মাথার ওপর দিয়ে জালে জড়ায়। আর তাতেই হার নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের।

পূর্ব গ্যালারিতে লাল-সবুজের বিশাল পতাকা। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ছিল উপচেপড়া দর্শক। উৎসবের অপেক্ষায় ছিল হাজারও চোখ। যখনই বাংলাদেশের ফুটবলারদের পায়ে বল এসেছিল, গ্যালারিতে ছিল উত্তেজনা। এই বুঝি গোল পেল লাল-সবুজরা।

নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচের গুরুত্ব আরও বেশি বেড়ে যায়, দিনের প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে পাকিস্তানের জয়ে। ‘ডু অর ডাই’-এ পরিণত হয় বাংলাদেশ ও নেপালের ম্যাচটি।

লাল-সবুজের ফুটবলারদের উৎসাহ দিতে দর্শকসমাগম ছিল অনেক বেশি। তারা চিৎকার করে বাদ্য বাজিয়ে উৎসাহ দিয়ে গেছেন নিজেদের প্রিয় দেশকে। কিন্তু হঠাৎ করেই রাজ্যের নিস্তব্ধতা নেমে আসে। প্রথমার্ধেই আচমকা গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ। যে গোলের পেছনে সব থেকে বেশি দায়ী ছিলেন গোলকিপার শহিদুল আলম সোহেল। গ্যালারি থেকে চেঁচিয়ে উঠে একজন বলেই ফেললেন, ‘গো টু হেল… সোহেল। আর তোমাকে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে দেখতে চাই না।’ এর আগে ১২ মিনিটে প্রথম কর্নার আদায় করে নেয় বাংলাদেশ।

মামুনুলের কর্নার লাফিয়ে উঠে হেড দিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করেন নেপালের ডিফেন্ডার। তবে দ্বিতীয় কর্নারটিও কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। ২৭ মিনিটে বক্সের সামান্য দূরেই ফ্রি-কিক পায়। ওয়ালী ফয়সালের বাঁকানো শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। কিন্তু ৩২ মিনিটে ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে প্রথম গোলও হজম করে তারা।

বিমল মাগারের ফ্রি কিক হাতে রাখতে ব্যর্থ হন গোলকিপার শহিদুল আলম সোহেল। তার হাতে লেগে মাথার ওপর দিয়ে বল চলে যায় জালে (১-০)। আর ম্যাচের অন্তিম সময়ে ফাঁকা বারের সুযোগে গোল করেন নাওয়াউং শ্রেষ্ঠা (২-০)। বিদায় ঘণ্টা বেজে যায় স্বাগতিকদের। সেই সঙ্গে দেশের ফুটবলের রু চিত্ররা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

About Post Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *