April 18, 2026

৫০ বছরেও এমন ক্রিকেট দেখিনি

89

কি অবিশ্বাস্য ইনিংসটাই না খেললেন বেন স্টোকস! যারা এই ইনিংসটা দেখেছেন, সারা জীবন মনে রাখার মত একটা স্মৃতি জমা হয়ে গেলো তাদের জন্য। লিডসের হেডিংলিতে ১৩৫ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলে নিশ্চিত হেরে যাওয়া ম্যাচটি স্টোকস জিতিয়ে দিয়েছেন ইংল্যান্ডকে।

জিততে হলে ৩৫৯ রানের লক্ষ্য ইংল্যান্ডের। এতবড় স্কোর গড়ে তো এর আগে ইংলিশদের কখনো জেতা হয়ে ওঠেনি। সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ড তাদের ৩৩২। তাও, ৯১ বছর আগে, ১৯২৮ সালে। এর মধ্যে আবার অসি পেসারদের তোপের মুখে প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছিল মাত্র ৬৭ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসেও হ্যাজলউড, কামিন্সদের গতির আগুনে পুড়তে শুরু করেছিল ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা।

৩৫৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ২৮৬ রানেই যখন ৯ম উইকেটের পতন ঘটলো এবং জ্যাক লিচ মাঠে প্রবেশ করলেন, তখনও কেউ ভাবতে পারেনি ইংল্যান্ড জিততে পারে। কারণ, অন্যপ্রান্তে স্টোকস থাকলেও লিচ কতক্ষণ টিকতে পারবেন, সেটাই চিন্তা করছিল সবাই।

কিন্তু দশম উইকেট জুটিতে লিচ যেন ক্রিজের সঙ্গে আঠা লাগিয়ে বসলেন। বল মোকাবেলা করেন তিনি, কিন্তু রান নেন না। রানের চেষ্টাও নেই তার মধ্যে। লিচের একমাত্র কাজ যেন হয়ে উঠলো স্টোকসকে সঙ্গ দেয়া। ১৭ বল মোকাবেলা করেন লিচ নিলেন কেবল ১ রান।

৭৬ রানের জুটি হলো, ৭৪ রান একাই করলেন স্টোকস। তাও ৪৫ বল খেলে। ছক্কা মারলেন মোট ৮টি। অবিশ্বাস্যভাবে যখন কামিন্সকে বাউন্ডারি মেরে জয়ের রানটিও নিয়ে নিলেন, তখন বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গিয়েছিল পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। এও কি সম্ভব? এমন অবিশ্বাস্য ব্যাটিং করা যায় কিভাবে? ক্রিকেট ইতিহাসে এতটা স্নায়ুক্ষয়ী ব্যাটিং করতে পারে কেউ, সেটা যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না কারো।

অবিশ্বাস্য ব্যাটিং করে অ্যাশেজের তৃতীয় টেস্ট জেতানোর পর রীতিমত প্রশংসায় ভাসছেন স্টোকস। সারা বিশ্বের সাবেক এবং বর্তমান সেরা সেরা ক্রীড়াবীদরা প্রশংসা করছেন স্টোকসের। তবে এর মধ্যে কিছুটা ব্যতিক্রমী মন্তব্য করলেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক জিওফ্রে বয়কট।

বেন স্টোকসের এই ব্যাটিং, জ্যাক লিচের উইকেটে সঙ্গ দেয়া এবং শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের জয়- এসব মিলিয়ে বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে গেলেন সাবেক এই ইংলিশ ক্রিকেটার এবং বর্তমানে তুখোড় ধারাভাষ্যকার। তিনি বর্ণনা করলেন, তার জীবনে দেখা সবচেয়ে সেরা ম্যাচ এবং সবচেয়ে সেরা ক্রিকেট মুহূর্ত হচ্ছে স্টোকসের এই ইনিংস এবং জয়।

ইংল্যান্ডের জয়ের পর টুইটারে ৭৮ বছর বয়সী বয়কট লিখেছেন, ‘আমার জীবনে ক্রিকেটে অনেক সেরা সেরা মুহূর্ত দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। কিন্তু গত ৫০ বছরে এমন কিছু আমি আর দেখিনি। একটি জাদুকরী এবং অনুপ্রেরণাদায়ক ইনিংস খেলে বেন স্টোকস অ্যাশেজটাকেই বাঁচিয়ে দিলো। এমনকি এটা বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা তার সেই ইনিংসের চেয়েও সেরা।’

অ্যাশেজজয়ী সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন জিওফ্রে বয়কটের এই টুইটকেই সমর্থন জানিয়ে লিখেছেন, ‘যখন জিওফ্রে বয়কট বলেন যে, তার দেখা ৬০ বছরের ক্রিকেটে এটা সবচেয়ে সেরা ম্যাচ, তখন আপনিও জেনে নিন, এটা সত্যিই সর্বকালের সেরা একটি ম্যাচ।’

বিশ্বকাপে স্টোকসের অধিনায়ক ছিলেন ইয়ন মরগ্যান। সামনে থেকে দেখেছেন স্টোকসের বীরত্ব। সেখানে তিনি এই ইনিংস দেখে তো চুপ থাকতে পারেন না। তিনি লিখেছেন, ‘সত্যিই এটা অবিস্মরণীয়।’
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার জেসন গিলেস্পি লিখেছেন, ‘সর্বকালের অন্যতম সেরা একটি ইনিংস হিসেবে।’ ভারতের সাবেক ওপেনার বিরেন্দর শেবাগ লিখেছেন, ‘এটাই বেন স্টোকসের কাছ থেকে স্পেশাল ইনিংস। একা এক হাতে একটি টেস্ট ম্যাচ জিতিয়ে দিলেন। সত্যিই অসাধারণ একটি ম্যাচ দেখলাম।’

About Post Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *